দেশের দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং খাতের আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উনড়বয়নের বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে যেমনঃ- বস্তি, রাস্তাঘাট, ট্রেন স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও ফুটপাথে বসবাসরত কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের ব্যাংকিং খাতে আনয়নের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা তৈরী, কষ্টোপার্জিত অর্থের সুরক্ষা, পথভ্রষ্ট হবার প্রবণতা হ্রাস করাসহ তাদের বৃহত্তর কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।
এ সব পথশিশু ও ক্ষুদ্র কর্মজীবী শিশুদের ভবিষ্যতে উনড়বত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদেরকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনয়নের তাদের নামে ১০(দশ) টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের কল্যাণার্থে তাদের নামে ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নি¤ড়বলিখিত বিষয়সমূহ অনুসরণ করতে হবেঃ
(১) যে সব বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে আগ্রহী তাদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক তৈরী করবে। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য আগ্রহী এনজিওসমূহকে কোন তফসিলী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং এন্ড সিএসআর ডিপার্টমেন্ট-এ আবেদন করার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। এ তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এনজিওসমূহের সুনাম, বিশ্বাসযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, অবকাঠামোগত সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করা হবে।
(২) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের পক্ষে হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব মনোনীত এনজিও’র অন্যূন ০২(দুই) জন কর্মকর্তার উপর ন্যস্ত হবে। উক্ত ০২(দুই) জন কর্মকর্তার মধ্যে ০১(এক) জন হিসাব বিভাগ সংশ্লিষ্ট এবং অপরজন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা হবেন। সংশ্লিষ্ট এনজিও’র পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মনোনীত হবেন।
(৩) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এনজিও’র অন্যূন ০২(দুই) জন কর্মকর্তার হলেও এসব হিসাবে জমা ও উত্তোলন সম্পর্কিত লেন-দেনের দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এনজিওকেই বহন করতে হবে। এটা উক্ত এনজিও’র Fiduciary Duty হিসাবে গণ্য হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এনজিও একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করবে।
(৪) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের নামে সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব (Custodial Account) খোলা হবে। তাদের পক্ষে হিসাবটি পরিচালনা (Operate) করবেন এনজিও প্রতিনিধিদ্বয়। অনুরূপ হিসাব ফরম ও অর্থ জমার বহিতে হিসাবধারী শিশু/কিশোরদের অনুস্বাক্ষর থাকতে হবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট এনজিও’র পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনে হিসাব পরিচালনাকারী পরিবর্তিত হতে পারে।
(৬) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের হিসাব Chequing বা Non Chequing যে কোন প্রকারে পরিচালিত হতে পারে। এ সব হিসাবের বিপরীতে Online Transaction সংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করা যাবে না অর্থাৎ কোন ডেবিট/μেডিট কার্ড ইস্যু করা যাবে না।
(৭) ছবিসহ হিসাবধারীর Know Your Customer (KYC) এর ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তবে হিসাব পরিচালনাকারীদের (এনজিও কর্মকর্তা) যথাযথ KYC নিশ্চিত করতে হবে।
(৮) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের বয়স নির্ধারণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(৯) এ সব পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের হিসাবের বিপরীতে নমিনি প্রযোজ্য হবে না। হিসাবধারী প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পনড়ব করতে হবে।
(১০) হিসাবধারীর বয়স ১৮ (আঠারো) বছর পূর্ণ হবার সাথে সাথে হিসাব পরিচালনাকারী এনজিও’র কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব হতে বিমুক্ত বলে গণ্য হবেন এবং হিসাবধারী ব্যাংক হিসাবটি পরিচালনা করতে পারবেন।
(১১) এ সব হিসাব হতে কোন প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি কর্তন করা যাবে না।
(১২) হিসাবের দৈনিক স্থিতির ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সঞ্চয়ী আমানতের সুদের হারে বছরে ২ (দুই) বার (জুন ও ডিসেম্বর মাসে) মুনাফা প্রদেয় হবে।
(১৩) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের হিসাবসমূহের জমা ও উত্তোলন (উত্তোলনের কারণ উল্লেখসহ) এর বিবরণী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এনজিও’র পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং এন্ড সিএসআর ডিপার্টমেন্ট-এ প্রেরণ করতে হবে। ব্যাংকসমূহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের হিসাবসমূহের বিবরণী হিসাব সংশ্লিষ্ট এনজিওদের বিনামূল্যে প্রদান করবে।
(১৪) পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু/কিশোরদের হিসাবসমূহে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মোট জমা এবং উত্তোলনের বিবরণী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরবর্তী ত্রৈমাসিকের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং এন্ড সিএসআর ডিপার্টমেন্ট-এ প্রেরণ করবে।
এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে ।
অনুগ্রহপূর্বক প্রাপ্তি স্বীকার করবেন ।